





গ্রামীণ এলাকায় বসবাসকারী বা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভালো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কঠিন হতে পারে। এই সমস্যা সমাধানে কর্ণাটক সরকার ‘যশস্বিনী স্বাস্থ্য বিমা প্রকল্প’ চালু করেছে। এটি সমবায় সমিতির সদস্যদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ প্রদান করে এবং অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার সেইসব খরচ বহন করে, যা অন্যথায় সদস্যদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হতো না।
তবে, আবেদন করার আগে যোগ্যতার মানদণ্ড সম্পর্কে জেনে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। যোগ্যতার মানদণ্ড, যশস্বিনী কার্ডের জন্য আবেদন করার পদ্ধতি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ সম্পর্কে জানতে সামনে পড়ুন।
যশস্বিনী স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পে যোগদান করতে হলে আপনাকে নিম্নলিখিত শর্তগুলি পূরণ করতে হবে:
যশস্বিনী কার্ডের জন্য আবেদন করা একটি সহজ ও সরাসরি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে যশস্বিনী স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের সুবিধাগুলো পাওয়া যায় । এই কার্ডটি যোগ্য সদস্যকে কর্ণাটকের যেকোনো অংশীদার হাসপাতালে উন্নত মানের ও স্বল্প খরচের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ করে দেবে। কীভাবে আবেদন করবেন তা নিচে দেওয়া হলো:
প্রথমত, নিশ্চিত করুন যে আপনি কর্ণাটক সমবায় সমিতি আইন, সৌহার্দ্য সহকারি আইন, বা বহুরাজ্য সমবায় সমিতি আইন দ্বারা পরিচালিত একটি স্বীকৃত সমবায় সমিতির সদস্য। কার্ডের জন্য আবেদন করার আগে আপনার সদস্যপদটি কমপক্ষে তিন মাস ধরে সক্রিয় থাকতে হবে।
আপনি যে সমবায় সমিতি বা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর (এসএইচজি) সদস্য, সেই শাখায় যান। আপনার এবং আপনার পরিবারের সদস্যদের জন্য ফর্ম সম্বলিত ইউনিক হেলথ আইডেন্টিফিকেশন (ইউএইচআইডি) তালিকাভুক্তি ফর্মের জন্য অনুরোধ করুন।
আপনার আবেদনপত্র জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করুন, যার মধ্যে রয়েছে:
নিম্নলিখিত নির্দেশ অনুযায়ী আপনার নথিপত্রসহ প্রযোজ্য বার্ষিক প্রিমিয়াম জমা দিন:
আপনার নথি যাচাই এবং অর্থপ্রদান সম্পন্ন হওয়ার পর, সমবায় সমিতি আপনার যশস্বিনী স্বাস্থ্য কার্ড ইস্যু করবে। কার্ডটিতে আপনার ইউএইচআইডি, নাম এবং আপনার তালিকাভুক্ত পরিবারের সদস্যদের বিবরণ থাকবে।
আপনার কভারেজ চালু রাখতে, আপনার সমবায় সমিতির মাধ্যমে বার্ষিক প্রিমিয়াম পুনরায় জমা দিয়ে প্রতি বছর আপনার কার্ডটি নবায়ন করুন।
যশস্বিনী কার্ড সদস্যদের যশস্বিনী স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্পের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত মানের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ করে দেয়। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
সদস্যরা প্রতি বছর ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বীমার আওতাভুক্ত থাকেন। এই অর্থ প্রকল্পের নেটওয়ার্কভুক্ত যেকোনো হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ব্যবহার করা যাবে।
এই কার্ডের আওতায় প্রকল্পের অধীনে অংশীদার হাসপাতালগুলোতে মোট প্রায় ১,৬৫০টি চিকিৎসা পদ্ধতি পাওয়া যায়।
যদিও বেশিরভাগ স্বাস্থ্য বীমাতে রোগ নির্ণয় পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে না, এই স্কিমটি সদস্যদের জন্য ছাড়কৃত মূল্যে এই পরিষেবাগুলি প্রদান করে।
আপনার যশস্বিনী কার্ড থাকলে নেটওয়ার্কভুক্ত হাসপাতালগুলিতে আপনাকে অগ্রিম কোনো টাকা দিতে হবে না । এই স্কিমটিই চিকিৎসার খরচ বহন করে।
এই প্রকল্পের অধীনে, অনেক অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার জন্য নির্দিষ্ট ও হ্রাসকৃত মূল্য রয়েছে। এই হারগুলো বেসরকারি হাসপাতালে সাধারণত যা পরিশোধ করতে হয়, তার চেয়ে অনেক কম।
যশস্বিনী কার্ডের জন্য আবেদন করে আপনি নিজের এবং আপনার পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে পারেন। এই সহজ প্রক্রিয়াটি আপনাকে কম খরচে বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা পরিষেবা পেতে সাহায্য করে এবং এর সাথে নেটওয়ার্কভুক্ত হাসপাতালগুলিতে ক্যাশলেস চিকিৎসার বাড়তি সুবিধাও রয়েছে।
আরও পড়ুন: