অভাবজনিত রোগ বলতে কী বোঝায়?

By providing my details, I consent to receive assistance from Star Health regarding my purchases and services through any valid communication channel.

অভাবজনিত রোগসমূহ: একটি বিশদ পর্যালোচনা

 

অভাবজনিত রোগ বলতে সেইসব অসুস্থতাকে বোঝায়, যা দীর্ঘ সময় ধরে কোনো ব্যক্তির খাদ্যে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অপর্যাপ্ততার কারণে ঘটে থাকে। এই রোগগুলো মৃদু থেকে গুরুতর হতে পারে এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে।

 

অভাবজনিত রোগ কখন দেখা দেয়?

 

শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান না পেলে অভাবজনিত রোগ দেখা দেয়। এই পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ, প্রোটিন, ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট এবং কার্বোহাইড্রেট। শরীরের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য এগুলোর প্রয়োজন হয়। এগুলো ছাড়া একজন ব্যক্তি বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগতে পারেন। অভাবজনিত রোগের লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ফ্যাকাশে ত্বক, মনোযোগের অভাব, চুল পড়া, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি।

 

পুষ্টি উপাদান বৃদ্ধি, বিকাশ এবং সার্বিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। যখন শরীরে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব দেখা দেয়, তখন অভাবজনিত রোগ নামে পরিচিত নির্দিষ্ট কিছু রোগের সৃষ্টি হয়। এই রোগগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং সময়মতো চিকিৎসা না করা হলে গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতার কারণ হতে পারে।

 

গবেষণায় দেখা গেছে, ভারতে ভিটামিন ডি এবং ভিটামিন বি১২-এর অভাব ব্যাপকভাবে দেখা যায়, অন্যদিকে ফোলেটের অভাব তুলনামূলকভাবে কম এবং এটি বিভিন্ন জনগোষ্ঠীভেদে ভিন্ন হয়। যখন অত্যাবশ্যকীয় জৈব উপাদানের অভাব দেখা দেয়, তখন তা শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপকে ব্যাহত করে এবং গুরুতর শারীরিক অবস্থার সৃষ্টি করে। অবহেলিত অভাবজনিত রোগ থেকে হৃদরোগ, একাধিক অঙ্গের বিকলতা এবং স্থায়ী দৃষ্টিশক্তি হ্রাস হতে পারে।

 

অভাবজনিত রোগের কারণ কী?

 

অভাবজনিত রোগের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অপর্যাপ্ত পুষ্টি শোষণ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বর্ধিত চাহিদা, দারিদ্র্য এবং খাদ্যের সহজলভ্যতার অভাব। 

 

  • অপর্যাপ্ত খাদ্যতালিকা হলো যখন আপনি এমন খাবার গ্রহণ করেন যাতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানের অভাব থাকে।
  • দুর্বল শোষণ একটি চিকিৎসাগত অবস্থা, যেখানে শরীর খাদ্য থেকে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদান শোষণ করতে পারে না।
  • অতিরিক্ত রান্না করা বা প্রক্রিয়াজাত খাবার থেকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।
  • জীবনের নির্দিষ্ট কিছু পর্যায়ে, যেমন গর্ভাবস্থা বা অসুস্থতার সময়, শরীরে নির্দিষ্ট পুষ্টি উপাদানের চাহিদা বেড়ে যেতে পারে এবং এর ফলে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
  • ক্রোনস ডিজিজ এবং সিলিয়াক ডিজিজের মতো পরিপাকতন্ত্রের রোগ পুষ্টি শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
  • অনেকের পুষ্টিকর খাবার কেনার সামর্থ্য নেই, যার ফলে পুষ্টির অভাবও দেখা দেয়।
  • অ্যান্টাসিড বা ডাইইউরেটিকের মতো কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে পুষ্টি শোষণ কমে যেতে পারে, যা অভাবজনিত রোগের কারণ হতে পারে।

 

অভাবজনিত রোগের অতিরিক্ত কারণসমূহ

 

নির্দিষ্ট পুষ্টির অভাবের উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরণের অভাবজনিত রোগ রয়েছে, যেমন:

 

ভিটামিনের অভাবজনিত রোগ

 

শরীরের বিভিন্ন কাজের জন্য ভিটামিন অপরিহার্য। নির্দিষ্ট ভিটামিনের অভাবে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

  • ভিটামিন এ-র অভাব (রাতকানা): এর ফলে কম আলোতে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
  • ভিটামিন বি১ এর অভাব (বেরিবেরি): এর ফলে দুর্বলতা, ওজন হ্রাস এবং হৃদরোগ সংক্রান্ত সমস্যা দেখা দেয়।
  • ভিটামিন সি-এর অভাব (স্কার্ভি): এর কারণে মাড়ি থেকে রক্তপাত, গাঁটে ব্যথা এবং ক্লান্তি দেখা দেয়।
  • ভিটামিন ডি-এর অভাব (রিকেটস): এর ফলে হাড় দুর্বল বা নরম হয়ে যায় এবং শিশুদের কঙ্কালে বিকৃতি দেখা দেয়।
  • ভিটামিন বি১২-এর অভাব (অ্যানিমিয়া): এর ফলে ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়।

 

খনিজ ঘাটতি রোগ

 

লোহা, ক্যালসিয়াম, আয়োডিন এবং জিঙ্কের মতো খনিজ পদার্থ শরীরের বিভিন্ন কার্যকলাপের জন্য অপরিহার্য। এগুলোর অভাবে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

  • আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতা: শরীরে আয়রনের অপর্যাপ্ততার কারণে এটি হয় এবং এর ফলে লোহিত রক্তকণিকার উৎপাদন কমে যায়।
  • ক্যালসিয়ামের অভাব (অস্টিওপোরোসিস): এর ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাড় ভাঙার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
  • আয়োডিনের অভাব (গলগণ্ড): এর কারণে থাইরয়েড গ্রন্থি স্ফীত হয়, যার ফলে গলায় ফোলাভাব দেখা দেয়।
  • জিঙ্কের অভাব: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব ঘটায় এবং চুল পড়ার কারণ হয়।

 

প্রোটিনের অভাবজনিত রোগ

 

পেশির বৃদ্ধি ও মেরামতের জন্য প্রোটিন অপরিহার্য। এর অভাবে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে।

 

  • কোয়াশিওরকর: এর বৈশিষ্ট্য হলো ফোলাভাব, বিরক্তিভাব এবং যকৃতের বৃদ্ধি।
  • ম্যারাসমাস: এর ফলে মারাত্মক ওজন হ্রাস এবং পেশী ক্ষয় হয়।
  • ক্যালোরির অভাবজনিত রোগ: ক্যালোরির অভাবে মারাত্মক অপুষ্টি হতে পারে।

 

অভাবজনিত রোগের লক্ষণ

 

অভাবজনিত রোগের অনেক লক্ষণ রয়েছে। নিচে অভাবজনিত রোগের লক্ষণগুলো উল্লেখ করা হলো:

 

  • ফ্যাকাশে ত্বক: আয়রনের অভাবজনিত রক্তাল্পতার কারণে, যেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে লোহিত রক্তকণিকা (RBC) থাকে না এবং হিমোগ্লোবিন উৎপাদন কমে যায়।
  • ক্লান্তি ও দুর্বলতা: এটি বিভিন্ন ঘাটতির একটি লক্ষণ, যা সতর্ক করে যে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি বা প্রয়োজনীয় উপাদান নেই।
  • ক্ষত নিরাময়ে বিলম্ব: টিস্যু মেরামত ও পুনর্গঠনে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ গুরুত্বপূর্ণ। 
  • পেশীর দুর্বলতা: এর কারণ হতে পারে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা অথবা পেশীর কার্যকারিতার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দিষ্ট ভিটামিন ও খনিজ পদার্থের ঘাটতি।
  • বিরক্তিভাব ও বিষণ্ণতা: কিছু উপাদানের ঘাটতি, বিশেষ করে বি ভিটামিন ও ম্যাগনেসিয়ামের অভাব, মেজাজ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
  • শ্বাসকষ্ট ও মাথা ঘোরা: এটি রক্তাল্পতা বা অক্সিজেন পরিবহনে বাধা সৃষ্টিকারী অন্য কোনো ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। 

 

অভাবজনিত রোগের অন্যান্য নির্দিষ্ট লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে

 

  • রাতকানা: ভিটামিন এ-র অভাবে এটি হয়ে থাকে, যা স্বল্প আলোতে চোখের মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে ব্যাহত করে। 
  • গলগণ্ড: আয়োডিনের অভাবে থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যাওয়াকে এটি বলে। 
  • ভঙ্গুর নখ বা চুল পড়া: এগুলো আয়রন, জিঙ্ক বা প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। 
  • মুখের ঘা বা অ্যাঙ্গুলার কেইলাইটিস: এই অবস্থাটি প্রায়শই আয়রন, বি ভিটামিন বা ভিটামিন সি-এর ঘাটতির সাথে সম্পর্কিত।

 

হাত-পায়ে ঝিনঝিন করা বা অসাড়তা: এটি ভিটামিন বি১২-এর অভাব বা অন্যান্য স্নায়ু-সম্পর্কিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

 

কীভাবে অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ করা যায়?

 

নিম্নলিখিত কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা করা যেতে পারে:

 

  • সুষম খাদ্য গ্রহণ: প্রতিদিন আপনার থালা বিভিন্ন ধরনের ফল, শাকসবজি, দুগ্ধজাত খাবার, মাংস, মাছ এবং শস্যদানা দিয়ে পূর্ণ করুন।
  • সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ: খাদ্যের মাধ্যমে পুষ্টি গ্রহণ পর্যাপ্ত না হলে, সাপ্লিমেন্ট পুষ্টির চাহিদা মেটাতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত গ্রহণ ক্ষতিকর হতে পারে।
  • পুষ্টিবর্ধিত খাদ্য: শস্য, দুধ এবং লবণের মতো অনেক প্রধান খাদ্যদ্রব্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ দিয়ে পুষ্টিবর্ধিত করা হয়।
  • পর্যাপ্ত জলপান: শরীরে জলের সঠিক মাত্রা পুষ্টি শোষণ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক।
  • খাবার পরিকল্পনা: সুষম খাবারের পরিকল্পনা পর্যাপ্ত পুষ্টি গ্রহণ নিশ্চিত করে।
  • পর্যাপ্ত সূর্যালোক গ্রহণ: সূর্যালোকের সংস্পর্শে এলে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি হয়।
  • প্রক্রিয়াজাত খাবার পরিহার করুন: প্রক্রিয়াজাত খাবারের তুলনায় তাজা ও গোটা খাবারে অনেক বেশি পুষ্টিগুণ থাকে।
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: পুষ্টি উপাদানের মাত্রা পর্যবেক্ষণ করলে ঘাটতি আগেভাগে শনাক্ত করা যায়।

 

অভাবজনিত রোগ সব বয়সের মানুষকেই আক্রান্ত করতে পারে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সঠিক চিকিৎসা এবং একটি ভালো জীবনধারা এই রোগগুলো প্রতিরোধে সাহায্য করতে পারে। চিকিৎসা না করালে, পুষ্টির অভাব গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে। সুস্থ থাকতে এবং পুষ্টিজনিত রোগ এড়াতে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখাই সর্বোত্তম উপায়। 

 

অভাবজনিত ১০টি রোগ কী কী?

 

১০টি অভাবজনিত রোগের মধ্যে রয়েছে স্কার্ভি, রিকেটস, প্রোটিন-শক্তি অপুষ্টি, বেরিবেরি, হাইপোক্যালসেমিয়া, ভিটামিন কে-এর অভাব, আয়োডিনের অভাবজনিত রোগ, পেলাগ্রা, জেরোফথালমিয়া এবং আয়রনের অভাব।

 

অভাবজনিত রোগ কাকে বলে?

 

অভাবজনিত রোগ বলতে খাদ্যগত বা বিপাকীয় ঘাটতির কারণে সৃষ্ট কোনো অবস্থাকে বোঝায়। এছাড়াও, প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান, যেমন প্রোটিন (বা অ্যামিনো অ্যাসিড), ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থের অপর্যাপ্ত সরবরাহের কারণে সৃষ্ট সমস্ত রোগ এই পরিভাষার অন্তর্ভুক্ত।

 

অভাবজনিত লক্ষণ বলতে কী বোঝায়?

 

অভাবজনিত লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুখের ঘা, ভঙ্গুর চুল ও নখ, ত্বকে আঁশযুক্ত ছোপ, চুল পড়া ইত্যাদি। এই লক্ষণগুলো জানা থাকলে আপনি সে অনুযায়ী আপনার খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে পারেন। একটি পুষ্টিকর ও সুষম খাদ্যের বিভিন্ন উপকারিতা রয়েছে।

 

পাঠকের জন্য দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধে প্রদত্ত তথ্য শুধুমাত্র সাধারণ শিক্ষামূলক এবং তথ্যগত উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে এবং এটিকে পেশাদার চিকিৎসকের পরামর্শ, রোগ নির্ণয় বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। অভাবজনিত রোগ, এর লক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা, বয়স, জীবনযাত্রা এবং অন্তর্নিহিত চিকিৎসাগত কারণের উপর ভিত্তি করে ভিন্ন হতে পারে। পাঠকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে, খাদ্যাভ্যাসে কোনো পরিবর্তন আনার আগে, সম্পূরক গ্রহণ শুরু করার আগে, বা পুষ্টির অভাবজনিত সন্দেহে চিকিৎসা নেওয়ার আগে একজন যোগ্য স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন।

 

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

Still choosing the right health plan?

We're here to guide you.

Disclaimer:
Health Insurance Coverage for pre-existing medical conditions is subject to underwriting review and may involve additional requirements, loadings, or exclusions. Please disclose your medical history in the proposal form for a personalised assessment. 
This FAQ page contains information for general purpose only and has no medical or legal advice. For any personalized advice, do refer company's policy documents or consult a licensed health insurance agent. T & C apply. For further detailed information or inquiries, feel free to reach out via email at marketing.d2c@starhealth.in