





পেশি গঠনের জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাস এখন আর কোনো কল্পকাহিনী নয়। তবে, ব্যায়ামের আগের খাবার ঠিক করার ক্ষেত্রে ব্যক্তিভেদে কিছু সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে।
ফিটনেসপ্রেমীদের বিভ্রান্ত করে এমন একটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো ডায়েট প্ল্যান। কেউ ওজন কমানোর জন্য ব্যায়াম করেন, আবার কেউ ওজন বাড়ানোর জন্য। প্রকৃতপক্ষে, ব্যায়ামের তীব্রতার মধ্যেও অনেক পার্থক্য থাকে। তাই খুবই যৌক্তিকভাবে, ব্যায়ামের আগের সেরা খাবারটিও সবার জন্য এক হবে না।
সুতরাং, সঠিক প্রি-ওয়ার্কআউট ডায়েট তৈরির জন্য আমাদের ব্যক্তিগত প্রয়োজন ও লক্ষ্যের উপর মনোযোগ দিতে হবে। তার জন্য, আমাদের প্রথমে একটি যথাযথ প্রি-ওয়ার্কআউট ডায়েট প্ল্যান বুঝে নিতে হবে।
রুটিন মিল হলো সেই খাবার যা আমরা প্রতিদিন ক্যালোরির ঘাটতি পূরণের জন্য খাই। অন্যদিকে, প্রি-ওয়ার্কআউট মিল হলো এমন খাবার যা আমরা ব্যায়াম শুরু করার আগে গ্রহণ করি। এটি সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার বা রাতের খাবার নয়। এটি এমন একটি খাবার যা আমরা ব্যায়াম শুরু করার তিন থেকে চার ঘণ্টা আগে গ্রহণ করি।
এই সময়ের ব্যবধানের পেছনের যুক্তি হলো, গ্রহণ করা খাবার হজম ও শোষিত হতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। আপনার অন্ত্রে হজম না হওয়া খাবার ব্যায়ামের সময় পেট খারাপ এবং তলপেটে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। অবশেষে, এটি আপনার শারীরিক বিকাশ এবং কর্মক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন যে, ব্যায়ামের আগের খাবার আপনার সর্বোত্তম চাহিদা অনুযায়ী তৈরি করা উচিত। ব্যায়ামের আগে পুষ্টির সর্বোত্তম গ্রহণ আপনার পেশী ও কঙ্কালতন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং সহনশীলতা বাড়ায়। আপনার কর্মক্ষমতাও বৃদ্ধি পাবে!
এর জন্য, আপনার সেরা প্রি-ওয়ার্কআউট খাবারে কোন কোন পুষ্টি উপাদান প্রয়োজন, তা আমাদের জানান।
শারীরিক কার্যকলাপ ঠিক রেখে বিকাশের জন্য আপনার শরীরের সঠিক জ্বালানি প্রয়োজন। এই বিষয়টি মাথায় রেখে, ব্যায়ামের আগে খাওয়ার জন্য কিছু অপরিহার্য খাবার নিচে দেওয়া হলো।
কার্বোহাইড্রেট হলো আপনার পেশীর প্রয়োজনীয় জ্বালানি। পেশীগুলো গ্লাইকোজেন আকারে কার্বোহাইড্রেট সঞ্চয় করে এবং স্বল্প সময়ের তীব্র ব্যায়ামের সময় তা ব্যবহার করে।
মনে রাখবেন, আপনার পেশীর গ্লাইকোজেন সঞ্চয়ের ক্ষমতা সীমিত। তাই, এর ক্ষয় ও সঞ্চয় সম্পূর্ণরূপে ওয়ার্কআউট পরিকল্পনার উপর নির্ভর করবে। গ্লাইকোজেনের মাত্রা কমে গেলে আপনার শক্তি উৎপাদনও হ্রাস পায়।
ওয়ার্কআউটের আগের খাবার পরিকল্পনা করার সময় কার্বোহাইড্রেট রিফিলিং বা লোডিং-এর কথা বিবেচনা করুন। এক থেকে সাত দিন ধরে উচ্চ-কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খেয়ে আপনি গ্লাইকোজেন সঞ্চয়ের ক্ষমতা বাড়াতে পারেন।
পেশি গঠনের জন্য ব্যায়ামের আগের খাবারের একটি অপরিহার্য উপাদান হলো প্রোটিন। এটি আপনার পেশির কলা মেরামত ও শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় গাঠনিক উপাদান হিসেবে কাজ করে।
ব্যায়ামের আগে প্রোটিনের এই উপস্থিতি পেশিতে প্রোটিন সংশ্লেষণ বাড়াতে পারে। এই অ্যানাবলিক প্রক্রিয়াটি আপনাকে নিম্নলিখিত উপায়ে উপকৃত করে।
সুতরাং, ওয়ার্কআউটের আগে সেরা খাবারে অবশ্যই সঠিক পরিমাণে প্রোটিন থাকতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ওয়ার্কআউটের আগে ওয়ে প্রোটিন (২৫ গ্রাম) গ্রহণ করলে পেশি বৃদ্ধি পায় এবং কর্মক্ষমতা বাড়ে।
আরও পড়ুন: অ্যাসেরোলা চেরির পুষ্টিগুণ
ব্যায়ামের আগের খাবারে চর্বি যোগ করা একটি প্রশ্নবিদ্ধ ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট। তবে, দীর্ঘক্ষণ ব্যায়ামের জন্য মানবদেহ যে শক্তি সঞ্চয় করে, চর্বি হলো তার দ্বিতীয় উৎস।
দীর্ঘ সময় ধরে করা কম থেকে মাঝারি তীব্রতার শারীরিক কার্যকলাপের জন্য গ্লাইকোজেন তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করে, অন্যদিকে চর্বি ধীরে ধীরে পোড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে যে দীর্ঘমেয়াদী উচ্চ-চর্বি ও কম-কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাদ্য উচ্চ-তীব্রতার ইন্টারভাল ট্রেনিংয়ের সময় কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
আমরা এখন প্রি-ওয়ার্কআউট মিলের জন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্ট সম্পর্কে জেনেছি ও বুঝেছি। চলুন, ব্যায়ামের লক্ষ্য এবং সময় বিবেচনা করে সেরা মিল প্ল্যানগুলো জেনে নেওয়া যাক।
পেশি গঠনের জন্য ব্যায়ামের আগের সেরা খাবারে কার্বোহাইড্রেট, চর্বিহীন প্রোটিন এবং স্বাস্থ্যকর চর্বির ভারসাম্য থাকা উচিত।
ব্যায়াম শুরু করার প্রায় এক বা দুই ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন।
এই উদ্দেশ্যে কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিহীন প্রোটিনের মিশ্রণই হলো ব্যায়ামের আগে খাওয়ার সেরা খাবার।
ব্যায়াম শুরু করার অন্তত এক ঘণ্টা আগে হালকা খাবার খান।
আরও পড়ুন: সার্ডিনের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা
ব্যায়ামের পরের খাবারে পেশি পুনরুদ্ধারে সাহায্য করতে এবং শক্তি পুনরুদ্ধারের জন্য যথাক্রমে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেটের ওপর জোর দেওয়া আবশ্যক।
সবচেয়ে ভালো ফলাফলের জন্য ব্যায়াম করার এক ঘণ্টা পর খাবার খান।
আপনার প্রি-ওয়ার্কআউট মিলকে সেরা ও নিরাপদ করে তুলতে এই টিপসগুলো অনুসরণ করুন।
ব্যায়ামের আগে কী খাবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই পরামর্শগুলো মনে রাখবেন।
আপনার ফিটনেস লক্ষ্য অর্জনের জন্য ব্যায়ামের আগে একটি ভালোভাবে নির্বাচিত খাবার অপরিহার্য। এই পরামর্শগুলো অনুসরণ করুন এবং পেশী গঠনের জন্য কী খাবেন তা জেনে নিন। পেশী গঠন, শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি এবং ওজন কমানোর জন্য এই ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টগুলোর সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখুন। মনে রাখবেন, আপনার শরীর একটি মন্দির এবং ব্যায়ামের আগের খাবার হলো তার ভিত্তি।