কী কারণে ভারতে মৃত্যু বাড়ছে? শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগ সম্পর্কে জানুন

By providing my details, I consent to receive assistance from Star Health regarding my purchases and services through any valid communication channel.

শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা

 

১.৪৬ বিলিয়নেরও বেশি জনসংখ্যা নিয়ে ভারত বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হয়ে উঠেছে। দুর্ভাগ্যবশত, একটি জনবহুল দেশ হওয়ায়, যথাযথ ক্লিনিক সুবিধার অভাবজনিত চিকিৎসা সমস্যা দেখা দিয়েছে এবং এটি সবচেয়ে মারাত্মক রোগগুলির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে।

 

ভূমিকা

 

২০২৪ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিবেদনে বলা হয় যে, ২০২১ সালে বিশ্বব্যাপী মোট ৬৮ মিলিয়ন মৃত্যুর মধ্যে প্রায় ৩৯ মিলিয়ন, অর্থাৎ ৫৭ শতাংশ, অসংক্রামক রোগের কারণে হয়েছিল। একইভাবে, ২০২১ সালে ভারতে প্রায় ৪৯.১ শতাংশ মানুষ এই অসংক্রামক রোগগুলিতে মারা যান।  

 

ভারতের শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগ, সেগুলোর সতর্কীকরণ লক্ষণ, ঝুঁকির কারণ এবং প্রতিরোধের কৌশল সম্পর্কে জানুন।

 

ভারতে মৃত্যুর ১০টি প্রধান কারণ

 

ভারতে শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগ হলো শ্বাসতন্ত্র ও হৃদরোগ, যার মধ্যে রয়েছে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ, স্ট্রোক ইত্যাদি। সবচেয়ে মারাত্মক সংক্রামক ও অসংক্রামক রোগগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নিচে উল্লেখ করা হলো।

 

১. ইস্কেমিক হৃদরোগ

 

ভারতে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ইস্কেমিক হৃদরোগ। ২০২৩ সালে, ভারতে হৃদরোগজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ, প্রতি ১,০০,০০০ জনে ২৮২ জন, যেখানে বিশ্বব্যাপী এই হার প্রতি ১,০০,০০০ জনে ২৩৩ জন।

 

  • কারণসমূহ:  নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন, নিয়মিত মদ ও তামাক সেবন, উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস।
  • লক্ষণসমূহ: বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, বমি বমি ভাব, গলা, চোয়াল, ঘাড় এবং বাহুতে ব্যথা।
  • প্রতিরোধ: ওষুধ গ্রহণ করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার করুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং মাসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।

 

২. স্ট্রোক

 

স্ট্রোক ভারতের শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে অন্যতম, যা মস্তিষ্কে রক্ত ​​​​প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে ঘটে থাকে। ২০২৪ সালের মধ্যে ভারতে এর কারণে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হবে।

 

  • কারণসমূহ:  উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, ধূমপান এবং মানসিক চাপ।
  • লক্ষণসমূহ: হাত, মুখ বা পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা বা অসাড়তা, মাথাব্যথা, কথা বলতে অসুবিধা এবং ঝাপসা দৃষ্টি।
  • প্রতিরোধ: রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ঔষধ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্য   

 

৩. ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি)

 

ভারতের শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে সিওপিডি অন্যতম, যা শ্বাসকষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৯ সালে এই ফুসফুসের রোগের কারণে ন্যূনতম ৮.৭% মৃত্যু হয়েছিল।  

 

  • কারণসমূহ:  অতিরিক্ত ধূমপান, বহিরাঙ্গন ও অভ্যন্তরীণ বায়ু দূষণ, রান্নায় জৈব জ্বালানির ব্যবহার
  • লক্ষণসমূহ: শ্বাসকষ্ট, শ্বাসকষ্টের শব্দ, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, ওজন হ্রাস, ক্লান্তি, বুকে চাপ
  • প্রতিরোধ: ধূমপান ত্যাগ করুন, বায়ু দূষণ এড়াতে মাস্ক ব্যবহার করুন।   

 

৪. ক্যান্সার

 

ভারতে মৃত্যুর সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ক্যান্সার, যেখানে ২০২৪ সালে ১৫,৩৩,০৫৫টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। শরীরে অস্বাভাবিক কোষের অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি টিউমারে পরিণত হয়। ক্যান্সার স্তন, যকৃত, ফুসফুস, পাকস্থলী এবং মস্তিষ্কের মতো বিভিন্ন অঙ্গকে প্রভাবিত করতে পারে।  

 

  • কারণসমূহ:  কোষের ডিএনএ-তে মিউটেশন, মদ্যপান, ধূমপান, বংশগত উত্তরাধিকার,  অপুষ্টি, আয়নাইজিং বিকিরণ, বিষাক্ত রাসায়নিকের সংস্পর্শ।
  • লক্ষণসমূহ: অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শরীরের নির্দিষ্ট অংশে পিণ্ড, ত্বকের পরিবর্তন, অস্বাভাবিক রক্তপাত
  • প্রতিরোধ: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, সক্রিয় থাকা, তামাক পরিহার, টিকাদান এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।

 

৫. ডায়রিয়া রোগ

 

ভারতে ডায়রিয়া এখনও মৃত্যুর প্রধান কারণ, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। বিশ্বব্যাপী প্রতি বছর পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর ২০% ভারতেই ঘটে, এবং ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার ৩৬% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

  • কারণসমূহ:  ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ বা খাদ্য বিষক্রিয়া, দুর্বল হজম ব্যবস্থা, নিম্নমানের পানীয় জল, খাদ্য স্বাস্থ্যবিধির অনুপযুক্ত অনুশীলন।
  • লক্ষণসমূহ: পাতলা পায়খানা, পেটে ব্যথা, বমি বমি ভাব, পেট ফাঁপা
  • প্রতিরোধ: ঘন ঘন হাত ধোয়া, ঔষধ ও স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, নিরাপদ পানি পান করা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা।

 

৬. শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ

 

ভারতে শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ সবচেয়ে মারাত্মক। ভারতে কোভিড-১৯, নিউমোনিয়া, ফ্লু এবং ব্রঙ্কিওলাইটিস মৃত্যুর কারণ। ২০২১ সালে, ভারতের একটি রাজ্য রাজস্থানে ৩৬ লক্ষেরও বেশি তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রামক রোগের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল।    

  

  • কারণসমূহ:  বায়ু দূষণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, ধূমপান, ভাইরাস সংক্রমণ, বায়ুবাহিত সংক্রমণ, অপুষ্টি এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
  • লক্ষণসমূহ: জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি, ক্লান্তি এবং শরীর ব্যথা
  • প্রতিরোধ: স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সামাজিক দূরত্ব    

 

৭. যক্ষ্মা

 

যক্ষ্মা একটি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ২০৩৫ সালের মধ্যে যক্ষ্মার প্রকোপ ৯০% কমানোর পরিকল্পনা করেছে। এটি ভারতে মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে ২০২৩ সালে আনুমানিক মৃত্যুহার ছিল ২২%। এই রোগটি প্রধানত ফুসফুসকে আক্রান্ত করে।

 

  • কারণ:  প্রধানত মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকুলোসিস দ্বারা সৃষ্ট, যা সংক্রামিত ব্যক্তির কাশি, থুতু বা হাঁচির মাধ্যমে ছড়ায়।
  • লক্ষণসমূহ: বুকে ব্যথা, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, জ্বর, ওজন হ্রাস, রাতে ঘাম হওয়া এবং ক্লান্তি।
  • প্রতিরোধ: ঔষধ সেবন, বিসিজি টিকা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, জনবহুল স্থানে মাস্ক পরা।    

 

৮. ডায়াবেটিস

 

ভারতে শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগের মধ্যে ডায়াবেটিস মহামারীর আকার ধারণ করেছে। ইন্ডিয়া কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ - ইন্ডিয়া ডায়াবেটিস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা হবে ১০.১ কোটি।    

 

  • কারণসমূহ:  স্থূলতা, শারীরিক কার্যকলাপের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিক ইতিহাস এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ।
  • লক্ষণসমূহ: ঘন ঘন প্রস্রাব, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ক্লান্তি, ঝাপসা দৃষ্টি, ওজন হ্রাস
  • প্রতিরোধ: স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, চিনিযুক্ত খাবার ও পানীয় পরিহার, ঔষধ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং রক্ত ​​পরীক্ষা।   

 

৯. যকৃতের রোগ

 

হেপাটাইটিস সি ও বি সংক্রমণ, ফ্যাটি লিভার এবং অ্যালকোহলজনিত লিভারের রোগ হলো ভারতে সর্বোচ্চ মৃত্যুহারযুক্ত লিভারের রোগ। ২০২২ সালে ভারতে সর্বোচ্চ সংখ্যক, ২.৯৮ কোটি হেপাটাইটিস বি রোগী এবং ৫৫ লক্ষ হেপাটাইটিস সি রোগী নথিভুক্ত করা হয়েছিল।   

 

  • কারণসমূহ:  ভাইরাস সংক্রমণ, মদ্যপান, স্থূলতা, অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ, ডায়াবেটিস, অরক্ষিত যৌন মিলন।
  • লক্ষণসমূহ: ক্ষুধামান্দ্য, জন্ডিস, ক্লান্তি, গাঢ় প্রস্রাব, পেটে ব্যথা
  • প্রতিরোধ: প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন, পরিষ্কার পানি পান করুন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন।   

   

১০. মানসিক স্বাস্থ্য ব্যাধি

 

ভারতে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে উদ্বেগ, বিষণ্ণতা এবং সিজোফ্রেনিয়ার কারণে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ। ২০২৩ সালে ভারতের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, প্রায় ৩.৩% বা ৪ কোটি ৪৯ লক্ষ মানুষ উদ্বেগে ভুগছিলেন।   

 

  • কারণসমূহ:  অতীতের মানসিক আঘাত, পরিবেশগত ও মনস্তাত্ত্বিক কারণ, বংশগত বা জৈবিক সমস্যা
  • লক্ষণসমূহ: দীর্ঘস্থায়ী বিষণ্ণতা, ক্ষুধামান্দ্য, ঘুমের সমস্যা, সামাজিক বিরক্তি, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত ভয়, অস্বাভাবিক আচরণ।
  • প্রতিরোধ: কলঙ্ক হ্রাস করা, মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা ও ধ্যানের প্রচার এবং কাউন্সেলিং সেশন।   

 

শেষ কথা

 

ভারতের স্বাস্থ্য বিভাগ অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান জটিলতা লক্ষ্য করছে। ক্যান্সার, স্ট্রোক, সিওপিডি, লিভারের রোগ, শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ এবং হার্ট অ্যাটাক ভারতে মৃত্যুর প্রধান কারণ। ভারতের শীর্ষ ১০টি প্রাণঘাতী রোগের সবগুলোই জীবন-হুমকিস্বরূপ, কিন্তু জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং সঠিক যত্নের মাধ্যমে এগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Disclaimer:
Health Insurance Coverage for pre-existing medical conditions is subject to underwriting review and may involve additional requirements, loadings, or exclusions. Please disclose your medical history in the proposal form for a personalised assessment. 
Information on this Health Information page is for educational purposes and not medical advice. Consult a healthcare professional for any health issues and rely on their guidance for diagnosis and treatment. T & C apply. For further detailed information or inquiries, feel free to reach out via email at marketing.d2c@starhealth.in