
অর্শ (হেমোরয়েডস)-এর লক্ষণ, কারণ এবং চিকিৎসা
অর্শ (হেমোরয়েডস)-এর লক্ষণ ও চিকিৎসা বিষয়ক একটি বিশদ নির্দেশিকা
পাইলস, যা হেমোরয়েডস নামেও পরিচিত, হলো মলদ্বার এবং পায়ুপথের চারপাশের শিরা ফুলে যাওয়া। রক্তনালীগুলো স্ফীত হয়ে শিরা ফুলে ওঠার কারণে এটি রোগীদের মলত্যাগের সময় চরম অস্বস্তির কারণ হয়। আসুন পাইলসের লক্ষণ, প্রকারভেদ, পর্যায়, কারণ, রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
পাইল কত প্রকারের হয়?
পাইলকে চার প্রকারে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়:
- অভ্যন্তরীণ অর্শ: এটি মলদ্বারের ভেতরের শিরা ফুলে যাওয়াকে বোঝায়, যা সাধারণত মলত্যাগের সময় চাপ বৃদ্ধি, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, গর্ভাবস্থা বা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণে হয়ে থাকে। এর ফলে জ্বালা বা স্থানচ্যুতির কারণে ব্যথাহীন রক্তপাত এবং অস্বস্তি হয়।
- বহিঃস্থ অর্শ: মলদ্বারের চারপাশের ত্বকের নিচে অবস্থিত স্ফীত শিরা, যা থেকে ব্যথা, চুলকানি এবং রক্তপাত হতে পারে। রক্ত জমাট বাঁধলে (থ্রম্বোসিস) এটি আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠতে পারে, যা থ্রম্বোসড বহিঃস্থ অর্শে পরিণত হয়। এর থেকে মুক্তি পেতে থ্রম্বেকটমির মতো চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
- প্রোল্যাপসড হেমোরয়েডস: এগুলো বালজিং হেমোরয়েডস নামেও পরিচিত এবং এটি তখন ঘটে যখন মলদ্বার বা পায়ুপথের নিচের অংশের স্ফীত শিরাগুলো পায়ুপথের বাইরে বেরিয়ে আসে।
- থ্রম্বোসড হেমোরয়েডস: এটি পেরিয়ানাল থ্রম্বোসিস নামেও পরিচিত, যা তখন ঘটে যখন হেমোরয়েডের ভেতরে রক্ত জমাট বাঁধতে শুরু করে। এর ফলে মলদ্বারের কাছে একটি বেদনাদায়ক ফোলা পিণ্ড তৈরি হয়।
এর প্রকারভেদের ওপর নির্ভর করে পাইলসের লক্ষণগুলো ভিন্ন হতে পারে। চলুন এ বিষয়ে আরও আলোচনা করা যাক।
পাইলসের বিভিন্ন লক্ষণগুলো কী কী?
প্রকারভেদের উপর নির্ভর করে লক্ষণগুলোকে নিম্নোক্তভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা যেতে পারে:
1. অভ্যন্তরীণ অর্শের লক্ষণ
অভ্যন্তরীণ পাইলস সাধারণত ব্যথাহীন হয়, যদি না স্ফীত শিরাগুলো স্থানচ্যুত হয়। এই ধরনের পাইলসে তেমন কোনো সুস্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায় না, ফলে রোগীর পক্ষে তিনি যে কষ্ট পাচ্ছেন তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে, অভ্যন্তরীণ অর্শে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি টয়লেট পেপারে, মলে বা টয়লেট বাটিতে রক্ত দেখতে পারেন। এই ঘটনাগুলো মলদ্বার থেকে রক্তপাতের লক্ষণ। পুরুষ ও মহিলাদের ক্ষেত্রে অর্শের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর প্রতি খেয়াল রাখলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা কার্যকর হবে।
2. বাহ্যিক অর্শের লক্ষণ
অভ্যন্তরীণ পাইলসের চেয়ে বাহ্যিক পাইলসের লক্ষণগুলো বেশি সুস্পষ্ট, কারণ এর বিভিন্ন ধরনের নির্দেশক উপসর্গ রয়েছে। এই উপসর্গগুলো থেকেই পাইলসের তীব্রতা বা পর্যায় শনাক্ত করা যায়। নিচে কিছু সাধারণ উপসর্গ উল্লেখ করা হলো:
- মলদ্বার বা মলাশয়ের চারপাশে ক্রমাগত চুলকানি।
- মলদ্বারের চারপাশের ত্বকে একটি বা কয়েকটি নীল রঙের নরম পিণ্ড থাকতে পারে।
- মলদ্বারের চারপাশে ব্যথা বা যন্ত্রণা অনুভব করা, বিশেষ করে অসুস্থতা শুরু হওয়ার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং বসে থাকলে।
- টয়লেট পেপারে বা টয়লেট ব্যবহারের পরে রক্ত।
- শৌচাগার ব্যবহারের পর এই পিণ্ডগুলো ফুলে উঠতে পারে এবং বড় অর্শ মলদ্বার পরিষ্কার রাখতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে, বাহ্যিক অর্শের লক্ষণগুলো চলে যেতে পারে কারণ শরীর অর্শটিকে পুনরায় শোষণ করে নেয়, যার ফলে ধীরে ধীরে এই উপসর্গগুলো কমে আসে। তবে, এই উপসর্গগুলোর উপর ভিত্তি করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়, কারণ এগুলো অন্য কারণেও হতে পারে।
3. থ্রম্বোসড এক্সটার্নাল পাইলসের লক্ষণ
পাইলসের লক্ষণগুলো এর প্রকারভেদ এবং তীব্রতার মাত্রার উপর নির্ভর করে। আসুন এই প্রতিটি প্রকারের পাইলস ও তার লক্ষণগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক:
- অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া: এক্ষেত্রে, সাধারণত মলত্যাগের পর মলদ্বারের চারপাশে অস্বস্তি বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। তবে, বাহ্যিক অর্শকে বেশি বেদনাদায়ক বলা হয়ে থাকে। মহিলাদের অর্শের অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি যন্ত্রণাদায়ক।
- চুলকানির সাথে জ্বালাপোড়া: রক্তনালী ফুলে যাওয়ার কারণে মলদ্বারের চারপাশের জায়গাগুলো সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। সময়ের সাথে সাথে এটি কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে, যার ফলে অস্বস্তি আরও বেড়ে যায়।
- পিণ্ড বা ফোলাভাব: মলদ্বারে পিণ্ড বা ফোলাভাব দেখা যাওয়া অর্শের উপসর্গের একটি লক্ষণ। এটি মহিলাদের ক্ষেত্রে অর্শের একটি প্রাথমিক লক্ষণও বটে।
- রক্তপাত: মহিলাদের পাইলসের সবচেয়ে সাধারণ লক্ষণ হলো মলত্যাগের পর মলের সাথে রক্ত যাওয়া। এই লক্ষণটি ব্যথাহীন এবং তাই টয়লেট পেপার বা টয়লেট বাটিতে রক্তের দাগ লক্ষ্য করা প্রয়োজন।
- শ্লেষ্মা নিঃসরণ: কিছু মহিলার মলদ্বার থেকে দুর্গন্ধযুক্ত শ্লেষ্মা এবং আঠালো পদার্থ নির্গত হয়। অতিরিক্ত জ্বালাপোড়ার কারণে এটি ত্বককে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
- প্রোল্যাপ্স: পাইলসের তীব্রতা বেশি হলে মহিলাদের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ পাইলস মলদ্বারের বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে। এর ফলে বসা, হাঁটা ইত্যাদির মতো দৈনন্দিন কাজকর্ম কঠিন হয়ে পড়ে।
- অসম্পূর্ণ মলত্যাগের অনুভূতি: মলত্যাগের পরেও রোগীর মল ভারী বা ভারী লাগতে পারে।
4. প্রোল্যাপসড পাইলসের লক্ষণসমূহ
প্রোল্যাপসড পাইলসের কিছু সাধারণ লক্ষণ হলো:
- মলত্যাগের পর মোছার সময় নরম, ব্যথাহীন গুটিগুলো মলদ্বারের মুখ দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসবে।
- মলের সাথে উজ্জ্বল লাল রক্ত বের হওয়া অর্শের একটি সাধারণ লক্ষণ। তবে, গাঢ় লাল রক্ত বৃহদন্ত্রে রক্তক্ষরণের ইঙ্গিত দেয়।
- রোগীদের মলদ্বারে চুলকানিও হতে পারে। এর ফলে মলদ্বারের চারপাশের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উত্তেজিত হয়ে ওঠে।
- প্রদাহের ফলে সাদাটে, আঠালো ও চটচটে শ্লেষ্মা তৈরি হয়, যা থেকে একটি অপ্রীতিকর দুর্গন্ধ ছড়ায়।
- মলত্যাগের পরেও রোগীদের পেট ভরা মনে হতে পারে, যা অস্বস্তির কারণ হয়।
- মলদ্বারের বাইরে টিস্যু বা কলা বেরিয়ে আসার কারণে মল চুইয়ে পড়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এই অবস্থাকে মল চুইয়ে পড়া বা মল অসংযম বলা হয়।
পাইলসের পর্যায়গুলো কী কী?
প্রাথমিক পর্যায়ের পাইলসের উপসর্গ দিয়ে শুরু করে, এটি সময়ের সাথে সাথে গুরুতর হয়ে ওঠে। আসুন নিচে পর্যায়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যাক:
- পর্যায় 1: হালকা উপসর্গসহ অভ্যন্তরীণ পাইলস: এই পর্যায়ে, রোগী পাইলস টের পান, যা উপসর্গের প্রথম পর্যায়। এগুলো মলদ্বারের ভিতরে হয় এবং হালকা অস্বস্তি সৃষ্টি করে। মলের সাথে রক্ত যেতে পারে, কিন্তু পাইলস দেখা যাবে না।
- পর্যায় 2: মলত্যাগের সময় পাইলস বাইরে বেরিয়ে আসা: এই পর্যায়ে, মলত্যাগের পরে পিণ্ড দেখা যায়, তবে শীঘ্রই তা ভিতরে ঢুকে যায়। এর ফলে মলদ্বারের চারপাশে চুলকানি হয়। এটি পাইলসের প্রাথমিক পর্যায়ের উপসর্গের চেয়ে বেশি গুরুতর।
- পর্যায় 3: প্রোল্যাপসড পাইলস: এটি একটি গুরুতর পর্যায় যেখানে প্রোল্যাপসড পাইলস মলদ্বারের বাইরে থাকতে পারে এবং হাত দিয়ে ঠেলে বের করার প্রয়োজন হবে।
- পর্যায় 4: গুরুতর প্রোল্যাপসড পাইলস: এই পর্যায়ে, পাইলস স্থায়ীভাবে বাইরে থেকে যায়, যা দৈনন্দিন কাজকর্মে অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
অর্শের কারণগুলো কী কী?
পাইলসের কারণগুলো জানলে এর প্রকোপ নিয়ন্ত্রণ করা এবং কমানো সম্ভব হবে। মহিলাদের এবং পুরুষদের পাইলসের কারণ কী, তা আমাদের জানান:
1. গর্ভাবস্থা
মহিলাদের ক্ষেত্রে পাইলসের লক্ষণগুলো গর্ভাবস্থার প্রায় ৩৬ সপ্তাহে দেখা দিতে শুরু করে, যখন শিশুটি শ্রোণী গহ্বরে নামতে শুরু করে। এই নামার সাথে সাথে মহিলারা তাদের শ্রোণী অঞ্চলে প্রচণ্ড চাপ অনুভব করেন। গর্ভাবস্থায় পাইলসের লক্ষণগুলোও একই রকম হয়।
2. প্রসব বেদনা শুরু হওয়া
গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের সময় শ্রোণীতে যে চাপ সৃষ্টি হয়, তার মতোই অতিরিক্ত টান ও চাপের কারণে রক্তনালী ফুলে ওঠে অথবা আগে থেকে বিদ্যমান অবস্থার অবনতি ঘটে। এই পর্যায়ে, প্রসবের সময় প্রচণ্ড চাপের কারণে বেশিরভাগ মহিলার মলদ্বারের শিরা ফুলে যায়।
3. জিনগত কারণ
পরিবারে বিদ্যমান কোনো জিনগত অবস্থার কারণে কিছু মহিলার শিরায় পিণ্ড তৈরি হওয়ার প্রবণতা থাকে। এই জিনগত উপাদানগুলো শিরার প্রাচীরের শক্তি ও স্থিতিস্থাপকতায় অবদান রাখে।
4. কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মলত্যাগের চাপ অনুভব করা
দীর্ঘদিন ধরে মলত্যাগের সময় পুরুষদের অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার ফলে মলদ্বারের মুখ দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে স্ফীত শিরাগুলিতে রক্ত জমাট বেঁধে অর্শ তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত চাপের কারণে ব্যথা, অস্বস্তি এবং রক্তপাত হতে পারে, যা অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক উভয় প্রকার অর্শকে প্রভাবিত করে। এছাড়াও, কোষ্ঠকাঠিন্যের সময় চাপ দেওয়ার ফলে মলদ্বারের চারপাশের শিরাগুলিতে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
5. স্থূলতায় ভোগা
রক্তনালীতে অতিরিক্ত চাপ পড়লে পাইলস হয়। তবে, কোনো ব্যক্তির ওজন বেশি হলে, তা পাইলস হওয়ার একটি সহায়ক কারণ। যেসব পুরুষ অফিসে কাজ করেন, তাঁদের দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করতে হয় এবং তাঁদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। পুরুষদের ক্ষেত্রে পাইলসের এই প্রাথমিক লক্ষণগুলোর দিকে নজর রাখতে হবে।
অর্শ রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি কী?
অর্শ রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা এই পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করে থাকেন:
- বংশগত ইতিহাস: এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য হলো, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিবারে অর্শ রোগ হওয়ার কোনো পূর্ব ইতিহাস আছে কিনা তা জানা। এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, কাশি, যকৃতের রোগ বা দীর্ঘকাল ধরে পায়ুসঙ্গমের মতো বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হতে পারে। এগুলো অর্শ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- সাম্প্রতিক পরিবর্তনসমূহ: তারা ওজনের যেকোনো ধরনের পরিবর্তন, মলত্যাগ, মলের রঙ, মলের সাথে রক্তপাত বা শ্লেষ্মা দেখা যাওয়া অথবা কোনো অস্বস্তির ওপর নজর রাখেন।
- স্বাস্থ্য অবস্থা পরীক্ষা: এরপর বিশেষজ্ঞ অর্শ হওয়ার ঝুঁকি নির্ণয়ের জন্য ওজন, স্থূলতা, গর্ভাবস্থা এবং মলদ্বারের সংক্রমণ বা উদরস্ফীতিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পরীক্ষা করেন।
- ওজন পরীক্ষা: মলদ্বার বা পায়ুপথের চারপাশে কোনো অস্বস্তি আছে কিনা তা পরীক্ষা করার জন্য তাঁরা ডিজিটাল রেক্টাল এক্সামিনেশন (Digital Rectal Examination) করেন।
- প্রক্টোস্কোপি: এই পদ্ধতিতে বিশেষজ্ঞরা প্রোটোস্কোপ নামে পরিচিত একটি ফাঁপা নল প্রবেশ করান, যা দিয়ে মলদ্বারের ভেতরের আস্তরণ পরীক্ষা করা হয়।
- বায়োপসি: বিশেষজ্ঞরা সাধারণত প্রক্টোস্কোপির সাথে এটি করে থাকেন। আক্রান্ত স্থান থেকে একটি নমুনা নিয়ে মাইক্রোস্কোপের নিচে স্লাইডে রেখে রঞ্জিত করার মাধ্যমে পাইলস ক্যান্সারের লক্ষণ পরীক্ষা করা হয়।
অর্শের চিকিৎসা কী?
অবস্থার তীব্রতার ওপর নির্ভর করে আপনার চিকিৎসক প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসাগুলো হলো:
১. ঘরোয়া প্রতিকার ও ঔষধ
অর্শের কিছু উপসর্গ, যেমন প্রদাহ এবং ফোলাভাব, বাড়িতেই চিকিৎসাযোগ্য।
- মল নরম করার জন্য আঁশযুক্ত খাবার খেলে তা মলদ্বারের রক্তনালীর প্রাচীর বরাবর উচ্চ চাপ সৃষ্টি হওয়া প্রতিরোধ করে।
- ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যাসিটামিনোফেন, অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেনের মতো প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ সেবন করলে সংশ্লিষ্ট ব্যথা কমাতে সাহায্য হতে পারে।
- হাইড্রোকর্টিসোনযুক্ত মলমের মতো ঘরোয়া ঔষধ ব্যবহার করলে উপশম পাওয়া যেতে পারে।
২. আক্রমণাত্মক পদ্ধতি
পাইলস বা হেমোরয়েডসের চিকিৎসা, এর তীব্রতার উপর নির্ভর করে, অস্ত্রোপচার ছাড়াই বিভিন্ন আক্রমণাত্মক পদ্ধতির মাধ্যমে করা যেতে পারে:
- বহিঃস্থ অর্শের থ্রম্বেকটমি: যদি বহিঃস্থ অর্শে বেদনাদায়ক রক্ত জমাট বাঁধে, তবে ডাক্তার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ করে তাৎক্ষণিক উপশম দিতে পারেন।
- স্ক্লেরোথেরাপি: অর্শকে সংকুচিত করার জন্য এর মধ্যে একটি রাসায়নিক দ্রবণ ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিটি কম বেদনাদায়ক, কিন্তু রাবার ব্যান্ড লাইগেশনের চেয়ে কম কার্যকর হতে পারে।
- জমাট বাঁধানোর কৌশল: ছোট, রক্তক্ষরণকারী অভ্যন্তরীণ অর্শকে শক্ত ও সংকুচিত করতে লেজার, ইনফ্রারেড আলো বা তাপ ব্যবহার করা হয়।
- রাবার ব্যান্ড লাইগেশন: অভ্যন্তরীণ অর্শের চারপাশে একটি ছোট রাবার ব্যান্ড পরানো হয়, যা রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়। অর্শটি এক সপ্তাহের মধ্যে সংকুচিত হয়ে ঝরে পড়ে।
৩. অস্ত্রোপচার পদ্ধতি
গুরুতর ক্ষেত্রে, ডাক্তাররা নিম্নলিখিত অস্ত্রোপচারগুলোর পরামর্শ দিতে পারেন:
- হেমোরয়েডেক্টমি: বড় বা গুরুতর অর্শ অপসারণের একটি অস্ত্রোপচার পদ্ধতি। এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি, কিন্তু এর ফলে সাময়িকভাবে প্রস্রাবে অসুবিধা হতে পারে।
- স্ট্যাপলড হেমোরয়েডোপেক্সি: এই অস্ত্রোপচার অভ্যন্তরীণ অর্শে রক্তপ্রবাহ বন্ধ করে দেয়, কিন্তু এতে অর্শ পুনরায় হওয়ার এবং মলদ্বার বেরিয়ে আসার ঝুঁকি বেশি থাকে।
শেষ কথা
অর্শের এই প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া উচিত, কারণ এগুলো দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। অর্শের লক্ষণ দেখা দেওয়ার প্রথম দিকে গরম জলে স্নান করলে পিণ্ডগুলো কমতে সাহায্য হতে পারে। তবে, কোনো বিলম্বের কারণে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হতে পারে।

Health Insurance Coverage for pre-existing medical conditions is subject to underwriting review and may involve additional requirements, loadings, or exclusions. Please disclose your medical history in the proposal form for a personalised assessment.
Information on the Symptom page is for general awareness purposes and not a substitute for professional medical advice. Always consult a healthcare professional for any health concerns before making any decisions regarding your health or treatment. T & C apply For further detailed information or inquiries, feel free to reach out via email at marketing.d2c@starhealth.in




