অতিরিক্ত পনির খাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

By providing my details, I consent to receive assistance from Star Health regarding my purchases and services through any valid communication channel.

অতিরিক্ত পনির খেলে কী হয়?

 

পনির ভারতীয় রন্ধনশৈলীতে বহুল ব্যবহৃত উপাদানগুলোর মধ্যে একটি। এটি এক ভিন্ন ধরনের চিজ যা সম্পূর্ণ দুধ থেকে তৈরি করা হয় এবং তারপর সাধারণত ভিনেগার বা লেবুর রসের মতো অম্লীয় পদার্থ দিয়ে জমাট বাঁধানো হয়।


ক্যালসিয়াম ও প্রোটিনের একটি চমৎকার উৎস হওয়ায় পনির হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে এবং এটি একটি সুষম খাদ্যের অপরিহার্য অংশ হতে পারে। এমনকি টোফুর মতো ভেগান-বান্ধব পনিরের বিকল্প হিসেবেও এটি পাওয়া যায়। তবে, অতিরিক্ত ল্যাকটোজ গ্রহণের কারণে অতিরিক্ত পনির খেলে অ্যাসিডিটি হতে পারে।


ভাবছেন প্রতিদিন পনির খাওয়ার প্রধান অসুবিধাগুলো কী কী? জানতে হলে পড়তে থাকুন।

 

অতিরিক্ত পনির খাওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো কী কী?


পনির সাধারণত পেটের জন্য সহনীয় এবং সহজে হজম হয়। তবে, এটি বেশি পরিমাণে বা কাঁচা খেলে বদহজম এবং পেট ফাঁপা হতে পারে। আয়ুর্বেদ গবেষণা অনুসারে, কাঁচা পনির সম্পূর্ণরূপে ভাঙতে অনেক সময় লাগে এবং এটি হজম করাও কঠিন। 


তাই, পনির সহজে হজম করার জন্য এলাচ, হলুদ বা আদার মতো মশলা দিয়ে রান্না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এছাড়াও, অতিরিক্ত পরিমাণে পনির খেলে এর ল্যাকটোজ সঠিকভাবে হজম হয় না। 
এর ফলে হাইড্রোজেন গ্যাসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে এবং হজমের সমস্যাও হতে পারে, যার ফলস্বরূপ পেটে তীব্র ব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, পেট ফাঁপা এবং ডায়রিয়া হতে পারে।

 

আরও পড়ুন: মৌরির উপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া


প্রতিদিন পনির খাওয়ার প্রধান অসুবিধাগুলো 


পনির নিঃসন্দেহে প্রোটিনের একটি সুস্বাদু উৎস হলেও, প্রতিদিন পনির খাওয়ার কিছু বড় অসুবিধা রয়েছে, যা নিচে ব্যাখ্যা করা হলো: 


●  উচ্চ কোলেস্টেরল


ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন (বিএইচএফ) জানিয়েছে যে, পনিরে উচ্চ মাত্রায় সম্পৃক্ত লবণ এবং চর্বি থাকে। তাই, অতিরিক্ত পনির খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে হৃদরোগ এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাবে।


●  ওজন বৃদ্ধি


যদিও পনিরে চর্বি ও ক্যালোরি তুলনামূলকভাবে কম থাকে, অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে শরীরে অনেক ক্যালোরি জমা হতে পারে। ব্যায়ামের মাধ্যমে এর ভারসাম্য বজায় না রাখলে এটি ওজন বৃদ্ধির কারণও হতে পারে।


●  সোডিয়াম সংক্রান্ত উদ্বেগ


দোকান থেকে কেনা অনেক পনিরেই সাধারণত অতিরিক্ত লবণ মেশানো থাকে, যা আপনার সোডিয়াম গ্রহণের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিএইচএফ (BHF)-এর মতে, শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে তা সাধারণত উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।


এছাড়াও, ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন (এনকেএফ) উল্লেখ করেছে যে, অতিরিক্ত সোডিয়াম গ্রহণের ফলে ক্যালসিয়াম প্রস্রাবের সাথে বেরিয়ে যেতে পারে, যা কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।

 

আরও দেখুন: লিউকাফেরেসিসের উপকারিতা এবং পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া 


●  কিডনি পাথর


আমরা জানি, পনিরে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম থাকে এবং এটি সাধারণত হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে, অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণ করলে সংবেদনশীল ব্যক্তিদের কিডনিতে পাথর তৈরি হতে পারে।


এছাড়াও, কিডনিতে পাথর এড়ানোর জন্য এনকেএফ-এর পরামর্শ হলো, কোনো ব্যক্তির প্রতিদিন ১২০০ মিলিগ্রামের বেশি ক্যালসিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়।


●  হাড়ের উপর প্রভাব


অতিরিক্ত পনির খেলে ফসফরাস এবং ক্যালসিয়ামের মাত্রার ভারসাম্যহীনতা দেখা দিতে পারে, যা এমনকি ব্যক্তির হাড়ের স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করতে পারে।


এছাড়াও, ‘দ্য আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশন’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, পনির দুধের পটাশিয়াম ও ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ৫০% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।


●   পুষ্টি উপাদানের বৈচিত্র্য কম


নিয়মিত অতিরিক্ত পনির খেলে আপনি অন্যান্য খাদ্যগোষ্ঠীর পুষ্টি থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন। পর্যাপ্ত বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা সাধারণত আপনার সমস্ত প্রয়োজনীয় খনিজ ও ভিটামিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। একারণেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একটি নির্দিষ্ট খাবারের উপর মনোযোগ না দিয়ে সর্বদা সুষম খাবার গ্রহণের পরামর্শ দেন।

 

একজন মানুষ প্রতিদিন কী পরিমাণ পনির খেতে পারে?


অনেক গবেষক দেখেছেন যে, যারা প্রতিদিন অতিরিক্ত পরিমাণে পনির খান, তারা অন্ত্রে গ্যাসের সমস্যায় ভুগতে পারেন। এর কারণ হলো, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের দেহে পনিরে থাকা ল্যাকটোজ ঠিকমতো হজম হয় না। 


সুতরাং, যারা জানতে চান একজন ব্যক্তি প্রতিদিন কী পরিমাণ পনির খেতে পারেন, তাদের জন্য প্রস্তাবিত পরিমাণ হলো ৫০ গ্রামের বেশি নয়। এই সীমাটি কঠোরভাবে মেনে চলা উচিত, বিশেষ করে যদি আপনার ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজের ইতিহাস থাকে।


গর্ভাবস্থায় পনির খাওয়া কি নিরাপদ?


অনেক মহিলাই ভাবেন যে গর্ভাবস্থায় পনির খাওয়া উচিত কি না! এর সহজ উত্তর হলো—যদি আপনার ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা না থাকে, তবে আপনি আপনার গর্ভাবস্থার খাদ্যতালিকায় পনির যোগ করতে পারেন। পনির হলো প্রথম শ্রেণীর প্রোটিন এবং ক্যালসিয়ামের একটি সমৃদ্ধ উৎস এবং তাই গর্ভাবস্থায় এর দৈনিক প্রস্তাবিত মাত্রা পূরণ করা উচিত।


তবে, পনিরের শুধু রান্না করা সংস্করণটি খাওয়ারও পরামর্শ দেওয়া হয়, যা হজম করা অনেক সহজ করে তোলে। 


গর্ভাবস্থায় একজন মহিলা কী পরিমাণ পনির খেতে পারেন?


এখন যেহেতু আপনারা সবাই পরিষ্কারভাবে জানেন যে গর্ভাবস্থার খাদ্যতালিকায় পনির অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তাই আপনাদের মনে পরবর্তী যে প্রশ্নটি আসতে পারে তা হলো, গর্ভাবস্থায় কী পরিমাণে পনির খাওয়া যেতে পারে।


গর্ভাবস্থায় পরিমিত পরিমাণে পনির খাওয়া প্রয়োজন। সাধারণত, একজন মহিলার গর্ভাবস্থায় ৫০-১০০ গ্রাম পনির খাওয়া উপযুক্ত।   


যেহেতু এখন আপনি প্রতিদিন পনির খাওয়ার অসুবিধাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন, তাই আপনি সেই অনুযায়ী আপনার খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারেন। আপনি যদি একজন নিরামিষাশী হন এবং প্রোটিনের জন্য শুধুমাত্র পনিরের উপর নির্ভর করেন, তবে এর পরিবর্তে সয়াবিন, শিম, ডাল, ওটস, কিনোয়া ইত্যাদির মতো অন্যান্য প্রোটিন-সমৃদ্ধ নিরামিষ খাবার খাওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।

Disclaimer:
Health Insurance Coverage for pre-existing medical conditions is subject to underwriting review and may involve additional requirements, loadings, or exclusions. Please disclose your medical history in the proposal form for a personalised assessment. 
Information on this Health Information page is for educational purposes and not medical advice. Consult a healthcare professional for any health issues and rely on their guidance for diagnosis and treatment. T & C apply. For further detailed information or inquiries, feel free to reach out via email at marketing.d2c@starhealth.in